ভয়ংকর ভৌতিক গল্পসমগ্র
বুধবার, ২১ মে, ২০২৫
বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫
রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২
" ডোম ঘরে লাশকাটা "
ঝির ঝির শব্দে একটানা বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। চারপাশ নিস্তব্দ- নিশুতি রাত মনে হলেও রাত মাত্র সাড়ে এগারোটা। কিন্তু এই মিরস্বরাই মেডিক্যাল এর লাশ ঘরের চারপাশে যেন নেমে এসেছে নিঝুম অন্ধকার-সাথে টিপটিপ বৃষ্টি। সালাম একটু আগে ভ্যান নিয়ে এসেছে এখানে। উদ্দেশ্য ছিল রমেশ ডোম কে লাশ টা বুঝিয়ে দেবে। পুলিশ কেস। লাশ টা একটা যুবতী মেয়ের। বয়স আন্দাজ ২৪ হবে। স্বামীর সাথে রাগ করে বিষ খেয়েছে। পুলিশ আসতে আসতে ফুলে ঢোল হয়ে গেছে লাশ। ফোলা লাশটা কে মেডিক্যাল এ ময়না তদন্ত করতে পাঠিয়েছে সালাম কে দিয়ে। সালাম এই লাশ বহনের কাজ করছে চার বছর ধরে। এই সব কাজে কখনো ভয় পায়নি সে। আরও বেশ ভালই লাগে ওর।অনেক দূর থেকে লাশ নিয়ে আসতে হলে সালাম এর ডাক পড়ে এই জন্য। অবশ্য টাকা ও কম পায়না। প্রতিটা লাশ টানার জন্য ৬০০ টাকা পায় সে। এ দিয়ে সপ্তাহ খানেকের নেশার টাকা হয়ে যায়- ভাবতে ভাবতে আরেকটা গাঁজা ভরা সিগারেট ধরাল সালাম। সে মর্গের বাইরে অপেক্ষা করছে রমেশের জন্য। রমেশ আসলেই ওকে লাশ বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাবে সে।
নিশুতি রাতে বের হলেই এক বোতল বাংলা নিয়ে যায় সালাম সবখানে । এভাবে প্রায় সময় ওকে মর্গের বাইরে বসে থাকতে হয়। সরকারী চাকরি করে রমেশ।তাই কোন সময় আসে সেটার কোন ঠিক থাকেনা। আর লাশ ফেলে রেখে ও যাবার উপায় নেই। রমেশের হাতের আঙ্গুলের ছাপ একটা সরকারী কাগজে নিতে হয় ওকে।এই ছাপের জন্য ই বসে থাকে প্রায় সময়। এই অপেক্ষার সময় টা বাংলা খেয়ে কাটায়। পাঁচ দিন আগে একটা লাশ নিয়ে এসেছিল সে। সেই সময় বেশ টাকা পেয়েছিল। তাই আজকে সাথে গাঁজার পুরিয়া ও আছে।তাই সময়টা মন্দ কাটছে না। মর্গের বাইরে টুল পাতা আছে- সেই টুলে বসে বসে আরেকটা বিড়ি ধরাল সালাম।
গাঁজা খাবার অভ্যাস সেই ছোট বেলা থেকেই ছিল সালামের। একসময় গাঁজা বিক্রি করত রেললাইনের বস্তি তে। সেখান থেকে চলে আসে পনের বছর বয়সে। সেই থেকে ভ্যান চালায় সালাম। এই পেশায় খুব একটা টাকা আসেনা দেখে থানার দারোগা বাবুর হাতে পায়ে ধরে চার বছর আগে লাশ টানার কাজ টা পেয়েছিল। সেই থেকে কপাল খুলেছে সালামের। দুই বছর আগে বিয়ে ও করেছিল। কিন্তু সংসার টেকেনি। ওর বউ ফুলবানু নাকি রাতের বেলা ওর শরীরে লাশের পঁচা গন্ধ পায়। মাস তিনেক আগে তাই তালাক দিয়ে চলে গেছে আরেকটা লোকের সাথে। ভাবতে ভাবতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সালাম। অনেকবার চেয়েছিল এই পেশা ছেড়ে দেবে। কিন্তু পারেনি। পেটের দায়ে এখন ও এই পেশায় পড়ে আছে।
বৃষ্টি থেমে গেছে একটু আগে। এখন মাটিতে সোঁদা গন্ধ- সাথে সালামের গাঁজার ফ্যাকাসে গন্ধ মিলে একটা অন্য রকম পরিবেশ তৈরি করেছে মর্গের আশ পাশে। এর মাঝে বাংলার বোতল ও প্রায় শেষ করে ফেলেছে- এমন সময় হটাত করেই ওর সামনে এসে হাজির হল রমেশ ডোম। বয়স পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই। কিন্তু এখন ও শরীরে প্রচণ্ড শক্তি। আর এই বয়সে ও দিব্যি মাল খেয়ে বেড়ায় সে। সারাদিন ঘুমায়- রাতে এসে লাশ কাটাকাটি করে। সালামের সামনে এসে দাঁড়াতেই সালাম চমকে ঊঠে বলল-
“কে গো? রমেশ কাকা নাকি?”
অনেক ক্ষন চুপচাপ থেকে হো হো করে হেসে ফেলল রমেশ। কিন্তু অন্ধকারে সেই হাসি শুনে হটাত করে যেন ভয় পেয়ে গেল সালাম। বলল-
” কি গো রমেশ কাকা? এমুন করি হাস কেন?”
” কিছু না রে সালামইয়া- দেখলাম তুই কতটা ডরাস রাইতে” বলেই আবার হাসি শুরু করে দিল রমেশ।
রেগে গেল সালাম- ” হ- আমিই ডরাই- আর তুমি যে আমারে এতক্ষন বসায়া রাখলা- এই লাশ ঘরের সামনে বইতে বইতে আমার পা দুইখান শেষ হই গেল। এতক্ষন যে তুমি বৃষ্টিরে ডরাই লা?? ”
” না রে সালাম- আমার ঘর থেইকে বের হইতে দের হই গেছে। ভাবলাম থানা থেকে লাশ আসিছে- তোকে বসায়া রাখুম না- কিন্তু হটাত বৃষ্টি শুরু হইল- কি করুম- আমার কাছে তো ছাতি নাই- তাই বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত আমি বাইর হইলাম না। ”
সালাম তাকিয়ে দেখল রমেশের শরীর শুকনা। তবে সে একটা সাদা কাপড় লুঙ্গির মত পড়ে আছে। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি- সাথে খালি গায়ে সাদা লুঙ্গি পরিহিত রমেশ কে দেখে খানিক্টা ভয় পেল সালাম। বলল-
” দাও গো কাকা- কাগজ টাতে একখান টিপ মাইরা- আমি চলি যাই- বেশ রাইত হইসে। ঘরে যামু।” বলে পকেট থেকে কাগজ বের করে এগিয়ে দিল রমেশের দিকে।
কিন্তু রমেশ যেন দেখে ও দেখল না- বলল-
” তা তো যাইবাই- কিন্তু আজকা তোমারে ছাড়ুম না চান্দু- তোমারে আমার লাশ কাঁটা দেখামু “- বলে আবার হো হো করে হেসে ফেলল রমেশ।
” না না- আমার কোন স্বাদ নাই দেখনের। তুমি কাট তোমার লাশ- আমারে টিপ দাও- আমি যাইগা-” বলেই ঊঠে পড়তে চাইল সালাম- কিন্তু রমেশ সালামের বাম হাত ধরে ওকে টেনে নিয়ে গেল লাশ কাঁটা ঘরের সামনে। কোমড় থেকে চাবি বের করে খুলে ফেলল দরজা। তারপর চাবির গোছাটা ভেতরে রেখে ভ্যান এর সামনে নিয়ে আসল সালাম কে- বলল-
” নাও বাছা ধর তো- নিয়া যাই ভেতরে-”
সালাম না করল না। দুইজনে মিলে মেয়েটার লাশটাকে তুলে নিয়ে গেল লাশঘরের ভেতরে। সেখানে একটা সাদা কাপড় পাতা টেবিলের উপর লাশটা রেখে বাতি জ্বালিয়ে দিল রমেশ ডোম। তারপর হেটে গিয়ে একটা চল্লিশ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়ে দিল। এই আলোতে অন্ধকার যেন আরো বেশী চেপে বসল। আশে পাশে কিছু দেখা যায়না। কোত্থেকে একটা বাক্স নিয়ে হাজির হল রমেশ। সেটা খুলে বের করল একটা ধারাল ছুড়ি। সেটা দিয়ে লাশ বাধার পাটি র বাঁধন খুলতে খুলতে বলল-
“আইজকে তোমারে আমি লাশ কাটা দেখামু। কোন দিন দেখলা না কিভাবে কাটি আমি লাশ” বলে হাসি হাসি মুখে তাকাল । হাসিটা দেখে হটাত ভয় পেয়ে গেল সালাম। কেমন যেন একটা জড়তা চলে এল ওর মাঝে। মন্ত্রমুগ্ধের মত মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। তারপর দেখতে লাগল কি করে রমেশ। অদ্ভুত এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে চারপাশে। এই অন্ধকার রাতে স্যাঁত স্যাঁতে সোঁদা গন্ধের সাথে একটা পঁচা পঁচা গন্ধে ভরে গেল সারা ঘড়। কিন্তু সালামের কোন অনুভুতি কাজ করছে না। সে তাকিয়ে আছে রমেশের সামনে রাখা লাশের দিকে। গন্ধের উৎস হয়ত সেখানেই।
রমেশ আস্তে আস্তে চারটা দড়ি কেটে লাশের উপর থেকে পাটি সরিয়ে ফেলল। তারপর সেই লাশের উপর থেকে সাদা কাফনের কাপড় টা সরিয়ে দিল। বাঁধন খুলতে গিয়ে সালাম ও হাত লাগাল। উপরের দিকের কাপড়টা খুলে সালাম দেখল এক অনিন্দ্য সুন্দরীর মুখ- এখন ফুলে ফেপে ঢোল হয়ে আছে। চোখের নিচে আর নাকের ফুটো দিয়ে চাপ চাপ রক্ত। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সালাম বলল-
” আহা কত সোন্দর আছিল- এখন কেউ এরে ছুইতে ও চাইব না- একদিন নিশ্চয় সবাই এই মায়ারে পাইতে চাইত- নিজের বউ বানাইতে চাইত- আইজকে সেই লোক গুলান আর এই মায়াটারে স্বপ্নে ও পাইতে চাইব না- কি আজিব দুনিয়া না রমেশ কাকা?”
খেক খেক করে হেসে রমেশ বলল-
“আরে দুই পয়সার দাম নাই জিনিস দিয়ে মানুষ কত ভাব ধরে দেখস না? এই মাংস এখন কাউরে দিলে ও নিবনা- কিন্তু ফুটানি মারে সব সময় এই মাংস নিয়া- দুনিয়া ছাইড়া গেলে সবাই ছুইতে ডরায়- দুনিয়ার মাঝে যারা ভালবাসে তারাও এই লাশ দেইখে ডরায়”- বলে আবার হাসি শুরু করল।
মনটা খারাপ হয়ে গেল সালামের। রমেশের খিস্তি হাসি শুনে আরো বেশী মন খারাপ হল। আজকে যেন বেশী বেশী হাসছে রমেশ। বেশী নেশা করলে যা হয় আরকি। ওকে টিপ না দিয়ে এই লাশ ঘড়ে আটকে রেখেছে। মাতালের সাথে বেশী কথা বলল না সালাম। এক নজরে দেখতে লাগল রমেশ কি করে।
রমেশ একটা ধারাল কাচি দিয়ে মেয়েটার উন্মুক্ত শরীরে বুক এর মাঝখান থেকে ধরে একটানে সোজা কেটে ফেলল নাভি পর্যন্ত। সাথে সাথে ফিনকি দিয়ে ছুটল রক্ত পড়া। কোত্থেকে এক গ্লাস পানি এনে ঢেলে দিল সেই রক্তের উপর। সাথে সাথে ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে গেল অনেক রক্ত। জীবন্ত মানুষের অপারেশন করতে অনেক কষ্ট- কিন্তু মরা লাশের অপারেশন করা অনেক সহজ। এরপর সেই লাশের দুইদিকে সুই দিয়ে চামড়া টান টান করে ট্রের সাথে লাগিয়ে দিয়ে কাটা শুরু করল লাশের বিভিন্ন অংগ প্রত্যঙ্গ। লাশের শরীর ফোলার কারন বুঝা গেল এবার। মেয়েটা অনেক মোটা ছিল- সারা শরীরে ভর্তি চর্বি। এই চর্বি গুলো হলদে আকার ধারন করেছে মরার পর। সেই চর্বি গুলো কেটে কেটে একটা বালতিতে ফেলে দিল রমেশ। অনেক দিনের অভ্যস্ত হাতে একটা একটা করে অংগ প্রত্যঙ্গ কাটছে রমেশ খালি হাতে- আর একটা ওজন যন্ত্রের উপর রেখে রেখে ওজন নিচ্ছে। তারপর টেবিলের আরেকপাশে সেই অংগ গুলো রেখে দিচ্ছে সাজিয়ে। হা করে তাকিয়ে আছে সালাম। কোন দিন লাশ কাঁটা দেখেনি। আজকে দেখছে- কিন্তু খেয়াল করেনি কখন পায়ের কাছে একটা কুকুর এসে পড়েছে- হটাত পায়ে একটা হালকা ছোয়া পেতেই ভয় পেয়ে গেল সালাম- তারপর টেবিলের নিচে তাকিয়ে দেখল রমেশের কুকুর ভুতু। সে টেবিলের তলায় রাখা বালতি থেকে মুখ দিয়ে কি যেন খাচ্ছে। হটাত মনে পড়ল সালামের-এই বালতিতেই লাশের চর্বি গুলো রেখেছিল রমেশ। উপরে উঠে রমেশ কে সেটা বলতে যেতেই দেখল রমেশ হাসি মুখে তাকিয়ে তাকিয়ে বলল-
” আরে এই জিনিসটা ভুতুর অনেক প্রিয়। ওরে ভাল কিছু তো খাইতে দিতে পারিনা- তাই এখানে আসলে ও হলুদ জিনিসটা খায়। ওরে আগে বকা দিতাম- কিন্তু চিন্তা করলাম – ভুতুরে ভাল মন্দ কিছু খাইতে দিতে পারিনা- কুকুরটা যখন এই জিনিসটা পছন্দ করছে- তাইলে কি হয় খাইলে একটু-” বলে আবার হেসে ফেলল রমেশ।
এবার কেমন যেন গা গুলিয়ে উঠল সালামের। খেতে দিতে হলে ময়লা খাবে- তাই বলে মানুষের চর্বি খাবে একটা পোষা কুকুর? নাক মুখ কুঁচকে আবার নিচে দেখে নিল সালাম। কুকুরটা তখন ও খেয়ে চলেছে চর্বি।
আস্তে আস্তে কাজ করে চলেছে রমেশ। সব অংগ প্রত্যঙ্গ প্রায় কাটা শেষ এমন সময় কি যেন চিন্তা করে কাজ থামিয়ে দিল সে। তারপর একটা একটা অংগ আবার যথা স্থানে রেখে দিতে লাগল। শুধু কলিজাটা পড়ে আছে টেবিলের এক কোনায়। কালচে আকার ধারন করেছে সেটা। হটাত কি মনে করে কলিজাটা একটা পলিথিন ব্যাগে পেচিয়ে নিয়ে হাটা দিল রমেশ। অবাক হয়ে গেল সালাম। অবাক হয়েই জিজ্ঞাস করল-
“কই যাও কাকা? কইলজাটা কই নিয়া যাও তুমি? কি করবা এটা দিয়া?”
পেছন ফিরে তাকাল রমেশ- খুব একটা ভাল ভাবে চেহারা দেখা যাচ্ছেনা- দেখা যাচ্ছে শুধু হলদে দাঁতের পাটি। হেসে হেসে ই বলল রমেশ-
” এইত- এই কইলজাটার একটা ব্যাবস্থা কইরা আসি রে সালাম- তুই থাক- আমি অক্ষন ই আইতাসি- এই যামু আর আসমু- সামান্য সময় থাক তুই” বলেই হন হন করে দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে গেল রমেশ। পেছন পেছন কুকুরটা ও ছিল। কি মনে করে পেছন ফিরে তাকাল কুকুরটা- অন্ধকারে কুকুরটার হলদে চোখের মনি দেখে ভয় পেয়ে গেল সালাম। একটু পরেই আবার বের হয়ে গেল সেটা। হাঁপ ছেড়ে যেন বাঁচল সালাম। লুঙ্গির গিট্টু থেকে একটা গাঁজার পুরিয়া বের করে টানা শুরু করতেই হটাত চিৎকার চেচামেচি শুনতে পেল সালাম- লাশ ঘরের বাইরে থেকে কারা যেন কথা বলে কিছু বুঝতে চাইছে। কেউ একজন মহিলা কাঁদছে। তাড়াতাড়ি লাশ ঘর থেকে বের হয়ে আসল সালাম। দরজা খুলে বের হয়েই অবাক হয়ে গেল সালাম। বাইরে আরেকটা ভ্যান দাঁড়িয়ে আছে। সালামের ভ্যানটা সরানো নিয়ে তর্ক করছিল কিছু মানূষ। মনে হচ্ছে ভ্যানে করে কোন একটা লাশ নিয়ে এসেছে কেউ। সাথে সেই লাশের আত্মীয় স্বজন। তাদের কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল ভেতর থেকে।
সালাম বের হয়েই জিজ্ঞাস করল-
” কি হইসে ভাই- কার লাশ নিয়া আসিছেন? রমেশ তো একটু আগে বাইর হইল- এখন ই আসি যাবে “- বলে গাঁজায় শেষ টান দিয়ে ফেলে দিল ফিল্টার টা।
হটাত নিস্তব্ধ হয়ে গেল সামনের জনতা।ভোর হতে শুরু করেছে মাত্র। আস্তে আস্তে জেগে উঠতে শুরু করেছে পাখি গুলো। এমন সময় যেন একটা বোমা ফাটাল সালাম। সামনে থাকা সবাই ওর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। একজন মহিলা এগিয়ে সালাম কে বলল-
” কে আছিল এতক্ষন? কে আছিল ভেতরে?”
“ক্যান কইলাম না রমেশ কাকা বাইরে গেছে- একটু পরেই আইসে পড়বে”
বিরক্তি সুরে বলল সালাম।
সেই মহিলা হটাত গিয়ে ভ্যানে রাখা লাশটার মুখ থেকে কাপড় খুলে ফেলে বলল-
” রমেশ যদি এখানে আসে- তবে এইটা কেডা?”
লাশে মাথাটা দেখে হটাত মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল সালামের। রমেশ সাদা কাপড় এ বাঁধা লাশ হয়ে পড়ে আছে সালামের সামনের ভ্যানে। হটাত করে বুঝতে পারল সালাম- ও অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। শুধু অজ্ঞান হবার আগে সেই ভ্যানের পাশে দাঁড়ানো রমেশের কুকুরটাকে দেখতে পেল সে। সেই হলদে চোখে তাকিয়ে আছে খানিক ক্ষন আগের মত। মুখের পাশে লেগে আছে হলদে চর্বি ।
শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২
অশরীরী মহিলা
আমার দাদুর বেড়ে ওঠা ফরিদপুরে। এখন হয়ত যুগের নিয়মে সবকিছুরই পরিবর্তন ঘটে গেছে, কিন্তু যখন কার কথা বলছি তখনও গ্রামে আলো আসেনি। সন্ধ্যে সাত টার মধ্যে গ্রামের লোকেরা যে যার বাড়ীতে ঢুকে যেত আর তার কিছুক্ষনের মধ্যেই খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ত। রাত নটায় দাদুদের গ্রাম ছিল একেবারে নিঝুম পুরী। ঝিঁঝিঁপোকার তারস্বর চিৎকার ছাড়া আর কোনও আওয়াজ পাওয়া যেতনা।
দাদুর বয়স তখন সদ্য বারো পেরিয়েছে। দাদুকে সব সময় ই দেখেছি ভীষণ ডাকাবুকো ধাঁচের। কোনও কিছুতে ভয় পাওয়া তার ধাতে ছিলনা। অন্যরা যখন ভূত পেত্নীর নাম শুনে ভঁয়ে শিঠোত তখন দাদু ছিলেন একজন উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। ওই বারো বছর বয়সে শ্মশানে যাওয়া, মড়া পোড়ান দেখা তার কাছে ছিল জলভাত ব্যপার। আমার বড় দাদু মানে দাদুর বাবা অনেক মেরে বকেও ছেলেকে শোধরাতে পারেন নি। একসময় তিনি ও হাল ছেড়ে দেন। আমার দাদুর মা, দাদু জন্মানোর এক বছরের মধ্যেই মারা যান। দাদুর আপন দিদি দাদুকে বড় করেন। দিদির যখন বিয়ে হয়ে যায় তখন দাদুর বয়স দশ বছর আট মাস। দিদি চলে যাওয়ার পর দাদুকে শাসন করার মতো বাড়ীতে কেউই রইলোনা। পাল্লা দিয়ে দাদুর দস্যিপনা বাড়তে থাকলো। শ্মশান, পোড়োবাড়ী, কবরখানা এসব ছিল তার খেলার জায়গা। দাদুর বাবা এসব দেখেশুনে বললেন “একদিন ওসব যায়গায় ভূতের হাতেই তোর শিক্ষে হোক”। দাদু দুষ্টুমির হাসি হাসতেন আর মনে মনে বলতেন “ভূত বলে কিছু হয়না”।
এবার আসল গল্পে আসি। দাদুর বয়স তখন বারো পেরিয়েছে। তখন বাংলাদেশে ভরা বর্ষাকাল। খাল বিল পুকুর দিঘি সব কিছু জলে পরিপূর্ণ। পদ্মা তে বাণ ডেকেছে। দাদুর বন্ধুরা সবাই মিলে ঠিক করে পদ্মার বাণ দেখতে যাবে। দাদু আরও বলেন, ফেরার পথে জোড়াবিলে এর পুকুরে মাছ ধরা হবে। জোড়াবিলে এর নাম শুনেই সব বন্ধুরা “থ” মেরে যায়।
জোড়াবিল এর নামে দাদুদের গ্রামে কিছু কাহিনী প্রচলিত ছিল। কেউ বলত ওখানে অশরীরী দের বাস, কেউ বলত ওখানে গেলে কেউ ফেরত আসেনা, যদিও দাদুদের গ্রামে এমন কেউ ছিলনা যারা কোনদিন জোড়াবিল গিয়ে আসল ঘটনা চাক্ষুষ করে এসেছে। বড় দাদু বলতেন ওখানে নাকি অনেক যুগ আগে কালু ডাকাতের আস্তানা ছিল। যারাই ওখান দিয়ে যেত তাদের সবকিছু লূঠপাঠ করে তাদের কে জোড়াবিলে এর খালে ডুবিয়ে মারত। একদিন এক বৃদ্ধা তার পঙ্গু স্বামী কে নিয়ে ওখানে দিয়ে ফিরছিল। বৃদ্ধার সামনেই কালু ডাকাত তার স্বামী কে জোড়াবিলে এর খালে ডুবিয়ে মারে। বৃদ্ধা তখন অভিশাপ দেন “তোরও একদিন এভাবে অপঘাতে মৃত্যু হবে, মড়েও তোর আত্মা শান্তি পাবেনা”। কিছুদিন পরে নাকি সত্যি সত্যি ই কালু ডাকাত জলে ডুবে মারা যায়। অনেকে বলে অনুশোচনায় আত্মহত্যা করে, আবার কেউ কেউ বলে বুড়ীর অভিশাপ অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছিলো। আসলে কি হয়েছিলো সে কথা কেউ জানেনা।
যাই হোক দাদুর প্রস্তাবে দাদুর কোনও বন্ধুই রাজী হয়নি যা একরকম অবধারিত ছিল। সবাই মিলে পদ্মার বাণ দেখে ফেরার পথে দাদু একরকম জোর করেই জোড়াবিলে যায়। বলাবাহুল্য দাদু সেখানে একাই গিয়েছিলো। দাদু যখন জোড়াবিলে পৌঁছায় তখন আকাশ মোটামুটি পরিষ্কার। রোদ না থাকলেও আলোর আভা রয়েছে। আজ মনে হয় আর বৃষ্টি নামবেনা। জোড়াবিলের খাল লাগোয়া একটা পোড়োবাড়ী আছে। এটা নাকি পাঁচশ বছর পুরনো। যদিও তাতে বাড়ীর আর কিছু অবশিষ্ট নেই। দেয়াল ভেঙ্গে পড়েছে, পলেস্তরা খসে পড়েছে। জায়গায় জায়গায় বট অশ্বত্থ গাছ দেয়াল বেয়ে উঠেছে। এখানেই নাকি কালু ডাকাত থাকত। বাড়ীটাতে ভূতুড়ে ছাপ একেবারে স্পষ্ট। কোথাও কোনও জন মনিষ্যি নেই। কোথাও একটা ডাহুক ডেকে উঠলো। দাদুর গা টা একটু ছমছম করে উঠলো।
ছিপ দাদুর সাথেই ছিল, আর সাথে ছিল পিঁপড়ের ডিম, মাছের ধরার টোপ হিসেবে। দাদু ছিপ ফেলে বসে রইলো। বেশ কিছুক্ষণ বসার পর মশার জ্বালায় দাদুর মাছ ধরা মাথায় উঠলো। মশা তো নয় যেনও পাখী। এই য়া বড় বড়। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। আসার পথে আকাশে যে আলোর আভা ছিল তাও ক্রমে ক্রমে ধূসর হয়ে আসছে। পশ্চিম কোণে ঘন মেঘ জমেছে। খুব জোর বৃষ্টি আসবে বলে মনে হল। হটাৎ দাদুকে চমকে দিয়ে দুরে কোথাও একটা কড়কড় করে বাজ পড়ল। দু এক ফোটা করে বৃষ্টি পড়াও শুরু হয়ে গেল। দেখতে দেখতে জোর বৃষ্টি শুরু হল আর সাথে দমকা এলো মেলো হাওয়া। দাদু পড়ি কি মড়ি করে পোড়োবাড়ীর দিকে ছুট লাগালেন। যখন বাড়ীটা তে দাদু পৌঁছল ততক্ষণে দাদু পুরো ভিজে গেছে। কোমরের গামছা খুলে ভাল করে চিপে দাদু গা মুছতে লাগল।
এইবার কাছ থেকে দাদু ভাল করে বাড়ীটা দেখতে শুরু করল। বাড়ীটা অনেকটা জায়গা নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে। বাড়ী ভর্তি মাকড়সার ঝুল। এখানে কতদিন পরে যে কারোর পা পড়েছে কে বলতে পারে। দাদু যেখানে দাড়িয়ে রয়েছে সেটা একটা বারান্দা। সাথে লাগোয়া দুটো পেল্লাই ঘর। একটা ঘরের ছাদ প্রায় নেই বললেই চলে, আর আরেকটা ঘর এর ছাদ মোটামুটি অক্ষত। দাদু ঠিক করল ওখানে গিয়ে দাঁড়াবে কারণ এলো মেলো হাওয়াতে বৃষ্টি দাদুকে ভিজিয়ে দিচ্ছিল। দাদু ঘরে ঢুকতে যাবে হটাৎ মনে হল বারান্দার পশ্চিম প্রান্তে কেউ দাড়িয়ে আছে। দাদু ভাল করে চোখ মেলে চেয়ে দেখল একটা কলাপাতা বৃষ্টি তে ভিজে চকচক করছে। নিজের ওপর নিজে হেসে দাদু ঘরে ঢুকল। ঘরে একটা বিকট গন্ধ। মড়া ইঁদুর, বারুদ আর মাটির সোঁদা গন্ধ একসাথে মেলালে যে গন্ধটা হয় অনেকটা সে রকম।
বৃষ্টি আজ থামলে হয়, এরপর যদি সয়লা নদীতে বাণ ডাকে তাহলে তো মহা বিপদ। গতবারের সয়লা নদীর বাণে গ্রামে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো। সর্বনাশ এবার ও যদি তেমন কিছু হয়। একটা ঊচূ জায়গা দেখে রাখতে হবে। তেমন হলে ছাদে উঠে যেতে হবে। দাদু ঘর থেকে বেড়িয়ে ছাদের রাস্তা খুঁজতে চলল। বারান্দার এক বাক ঘুরতেই আবার সেই দৃশ্য, কেউ একজন দাড়িয়ে রয়েছে। দাদু ভাল করে চোখ কচলে দেখল এবার সত্যি সত্যি ই কেউ দাড়িয়ে আছে। দেখে মনে হল একজন বুড়ী গোছের মহিলা, পড়নে সাদা শাড়ী। ইনি কে? ইনি ও বোধ হয় বৃষ্টি তে আটকে পড়েছেন। দাদু কাছে যেতে গেলে উনি একটা ঘরে ঢুকে গেলেন। দাদু ও পেছন পেছন ঘরে ঢুকে যান। কিন্তু ঘর খালি। কেউ কোথাও নেই। হটাৎ করে পেছন ফিরে দাদু দেখেন
মহিলা দাদুর ঠিক পেছনে দাঁড়ীয়ে। চোখটা অগ্নিকুণ্ডের মতো জ্বলজ্বল করছে। পা তার মাটীতে নেই। দাদুর বুঝতে ভূল হলনা আজ সাক্ষাৎ মৃত্যুর সামনে দাঁড়ীয়ে আছেন। সেই অশরীরী রাগে ফুঁসতে শুরু করল। দাদু কিছু বোঝার আগেই একটা আওয়াজ ভেসে এলো। অট্টহাসির আওয়াজ। পুরুষ কণ্ঠ। সাথে তার কথাও শোণা গেল “ আজ অনেক যুগ পরে মানুষের খুনে নিজের কলিজা ঠাণ্ডা কড়ব”। আর সাথে হাড় হীম করা অট্টহাসি। হটাৎ করে দাদুর সামনে থাকা অশরীরী টা দাদুকে শূন্যে ছুড়ে দিলো। দাদু জ্ঞান হারালেন শুধু এইটুকু শুনলেন এক নাড়ীকণ্ঠ বলছে “আমি থাকতে তা তুই কোনোদিন ই পারবিনা”।
দাদুর যখন জ্ঞান ফেরে দাদু তখন বিছানায়, নিজের ঘরে। সামনে বাবা, বন্ধুরা সবাই ভীড় করে রয়েছে। কয়েক রাত দাদুর খুব জ্বর গেল। দাদু যখন সুস্থ হল তখন বন্ধুদের মুখ থেকে শুনল, তারা সবাই এসে পাড়াতে দাদুর জোড়াবিলে যাওয়ার কথা বলে। সবাই পাড়া থেকে দাদুকে খুঁজতে বের হয়। সবাই যখন জোড়াবিলের সামনে এসে দাড়ায় তখন সন্ধ্যা নামে নামে। বৃষ্টি ও ধরে এসেছে। হটাৎ কিছু একটা পড়ার আওয়াজে সবাই পেছন ফিরে দেখে দাদুর জ্ঞানশূন্য শরীর পরে রয়েছে। রাতে দাদুর জ্বর চড়মে উঠে যায়। জ্বরের ঘোরে দাদুর মুখ থেকে বিকট বিকট আওয়াজ বেড় হয়। কখনো দাদু বলেছে “কাঊকে ছাড়বনা, সবাইকে শেষ করে ফেলব” আবার কখনো বা বলছে “আমি সবাই কে বাঁচাবো, তুই কারোর কোনও ক্ষতি করতে পারবিনা”
কালক্রমে দাদু সুস্থ হয়ে ওঠে। ঘটনার অনেকদিন পর একদিন দাদু বাড়ীর দাওয়া তে বসে আছে, সন্ধ্যে তখন সবে নেমেছে। হটাৎ দাদু পাশ ফিরে দেখেন সেদিন কার সেই মহিলা। আজ আর তার চোখ জ্বলছেনা, চোখে মুখে প্রশান্তির হাসি। বড় মায়াবী তার মুখ খানি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি আবার অদৃশ্য হয়ে যান।
।। সাদা বুড়ি ।।
আব্বা WAPDA তে চাকুরী করতেন। সেই জন্য ওনার পোস্টিং হতো কয়েক বছর পর পর দেশের বিভিন্ন শহরে। আমি তখন ক্লাস ২ তে পরি। এবার আব্বা বগুড়া তে পোস্টিং পেয়েছেন। নতুন স্কুল, নতুন জায়গা, নতুন বন্ধু সব কিছুই এলো মেলো। গোছাতে সময় লাগবে। স্কুলটা কিন্তু WAPDA এর ভেতর ছিলনা,আমাদের যেতে হতো প্রায় ১ KM হেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর স্কুল এ। স্কুল এর বন্ধুরা বলতো তোমাদের কলোনিতে ভূত
আছে। বিশ্বাস করতাম ছোটো ছিলাম বলে।
রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় তাই বড় ভাইকে ধরে ঘুমাতাম। সেদিন যে খাটে শুয়েছি পা বরাবর অনেক বড় জানালা। গরম বেশি থাকাতে জানালাটা খুলেই ঘুমিয়েছি দুভাই। আমার বড় ভাই সব সময় আমাকে ঘুমানোর আগে দোয়া পরিয়ে ঘুম পারাত, কিন্তু সেদিন আমি দোয়া না পরেই ঘুমিয়ে গেছি। মাঝ রাত্রে স্বপ্নে দেখলাম এক সাদা কাপড় পড়া বুড়ি পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে এসেছে আমাকে নিয়ে যেতে। তার হাসি দেখে পিলে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা সেই ঘুমের মধ্যেই। স্বপ্নের মধ্যেই দেখলাম মা আমাকে তুলে ছুঁড়ে দিল ঐ বুড়ির দিকে আর বুড়িটা আমাকে নিয়ে চলে যাওয়া মুহূর্তে মা আমাকে আবার ছিনিয়ে নিচ্ছে ঐ বুড়ির কাছ থেকে। মা আমাকে শক্ত করে ধরে আছে আর বুড়িটা মায়ের কাছে থেকে আবার আমাকে নিয়ে নেয়ার জন্য হাত বাড়াচ্ছে। আমাকে অবাক করে দিয়ে মা আমাকে আবার তার কাছে ছুঁড়ে দিল এবং বুড়িটি আমাকে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে আবার মা আমাকে ছিনিয়ে নিল তার কাছ থেকে। এভাবে চলল কিসুক্ষন এবং আমি জোরে চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠে গেলাম। বাসার সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠলো আমাকে নিয়ে, আমি জানালা থেকে দূরে সরে আসার অনেক চেষ্টা করতে লাগলাম, মা যখন আসলো তখন তাকে এমন জোরে ধরেছি যে আমাকে ছুটানর জন্য আব্বা আর ভাই দুই জন শক্তিশালী মানুশ এর প্রয়োজন হয়েছিল। আর আমি বারবার বলছিলাম আমাকে দিয়ে দিওনা ঐ বুড়ির কাছে। মা আমাকে আয়াতুল কুরসি পরে বুকে ফুঁক দিলেন এবং ঐ রাত্রের জন্য আমরা সবাই এক ঘরে ঘুমালাম। কারন জানলাম যে বড় ভাইও ভয় পেয়েছেন আমার চিৎকারে।
পরের দিন মসজিদের হুজুর কয়েক আয়াত পরে বুকে ফুঁ দিলেন আমার জন্য। এর পর থেকে প্রায় রাত্রেই গোঙাতাম আর ঘুম ভেঙ্গে যেত ভাই এর ডাকে। এত গেল স্বপ্নে দেখা সাদা বুড়ি। এই বুড়িকে আমি বাস্তবে দেখেছি ৬ বছর পর। আসছি শেই ঘটনায়। আল্লাহ্ বলেছেন, “অয়ামা খালাক্তুল জিন্নাহ অয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন”---“আমি জিন ও মানব জাতিকে আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি”।
মানুষের মদ্ধে যেমন ভালো খারাপ আছে তেমনি ওদের মদ্ধে ও ভালো খারাপ আছে। মানুষ এক প্রজাতি হয়ে যেমন অন্য প্রজাতির ক্ষতি করে তেমনি জিনরাও অন্য প্রজাতির (মানুষ সহ) ক্ষতি করে। তাই খারাপ জীন আছে এটা বিশ্বাস করলে দোষের কিছু হবেনা। আর ভুতের কথা বলছেন? এরাও জীন, কেও ভালো আবার কেউবা খারাপ। ভুত শব্দটা আমরা আমাদের কথিত বাংলা ভাষায় ব্যাবহার করে থাকি।
আমি তখন ক্লাস এইট এ পড়ি। গ্রামে নতুন বাড়ি কেনা হয়েছে মুনশিগঞ্জের শ্রীনগর থানার হাঁসারা গ্রামে। ভাই চলে গেছেন বিদেশে চাকরির খাতিরে তাই বাড়ির বড় ছেলে বলতে আমি। জিবনে কখনো গ্রামে থাকিনি নানির বাড়ি বেড়াতে যাওয়া ছাড়া, তার উপর ইলেক্ট্রিসিটি অথবা ভাল রাস্তাঘাট ছিলনা ঐ সময়। ভুতের ভয়ের চাইতে বিষাক্ত শাপের ভয় বেশি ছিল ঐ বয়সে। বাড়ির পাশেই একটা মাঝারি ধরনের বট গাছ, তার পর বড় বড় কতগুলো দিঘি, এগুলর বা দিকে আছে একটা অনেক বড় খালি বাড়ি। বাড়িটাতে অনেক বড় বড় আম গাছ আর করই গাছ। সামনে আসে একটা ভয়ঙ্কর রকমের ভাঙ্গা জমিদার বাড়ি নাম সেনের বাড়ি, অনেক বড় এলাকা জুড়ে ছিল এই বাড়িটি। হাজার রকমের বড় বড় গাছ দিয়ে ঘেরা। ভেতরে ঢুকলে সূর্যের আলো চোখে পরেনা। তার ২০০ গজ দুরেই আমাদের স্কুল। মুনশিগঞ্জের সবচেয়ে পুরনো স্কুল। বাজারে যাওয়ার সময় আমি এই দিক দিয়ে না যাওয়ার চেষ্টা করতাম আর যদি জেতাম তবে মানুষ থাকত। অন্য দিক দিয়ে বাজারে গেলে সোজা রাস্তা। বর্ষার সময় এই রাস্তাটা দুবে যেত তাই বাধ্য হয়েই আমাকে এই রাস্তা দিয়ে প্রাইভেট পরতে যেতে হত বিকাল বেলায় সেই ভাঙ্গা বাড়ির সামনে দিয়ে আর ফিরতে হত সন্ধ্যার সময় কখনো কখনো রাত ১০ টার পর।
এখন বর্ষাকাল তাই আমাকে বিকাল বেলায় কাজের ছেলে করিম নৌকায় করে স্যারদের এলাকায় দিয়ে গেল। জায়গাটার নাম পালের বাড়ি। করিম বয়সে আমার চাইতে বছর ২ এর ছোট হবে, দুজনেই নৌকা বাইতে খুব পছন্দ করতাম, তাই আমাকে হেটে যেতে হলনা। ও বাড়িতে চলে গেল আর আমি গেলাম স্যার এর বাসায় পরতে। পরালেখায় মোটামুটি ছিলাম তাই ক্লাস ৮ এর বৃত্তির জন্য খুব প্রস্তুতি চলছিল। পরতে পরতে রাত সাড়ে ১০ টা বেজে গেল। স্যার বলল যেতে পারবি বাড়িতে না দিয়ে আসতে হবে? প্রেস্টিজে লেগে গেল যদি ও ভয় পাচ্ছিলাম, বললাম স্যার কি যে বলেন না। কাল দেখা হবে স্কুলে বলে আমায় যেতে বললেন। আমার হাতে একটা কলমের সাইজ এর মত একটা টর্চ ভাই পাঠিয়েছে বিদেশ থেকে। কিন্তু এটার একটা সমস্যা হল ৫ থেকে ৬ সেকেন্ড পর বন্ধ করতে হয় কিচুক্ষনের জন্য। যেহেতু করিম আসবেনা এত রাতে তাই আমাকে হেটে যেতে হবে সেই ভাঙ্গা বাড়ি দিয়ে।
আয়াতুল কুরসি পরে বুক এ ফুঁ দিয়ে হাটা শুরু করলাম। মহাসড়ক দিয়ে ১৫ মিনিট হাটার পর ডানদিকে বাক নিতে যাওয়ার সময় আল্লাহকে ধন্যবাদ জানালাম কারন সামনে দেখি একলোক যাচ্ছেন আমার রাস্তা বরাবর। তার পিছু নিলাম। ৩ মিনিট পর সেই ভাঙ্গা সেনের বাড়ি। আমি এটাকে এড়িয়ে অন্য দিক দিয়ে গেলে আমাদের স্কুল দিয়ে যেতে পারি কিন্তু গেলাম না কারন আমার সাথে ঐ ব্যাক্তি আছেন। মজার ব্যাপার হল এতক্ষনের জন্য আমি একবার ও তাকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি উনি কেমন আছেন বা কোথা থেকে এলেন। আর তাছাড়া এলাকায় নতুন বলে অনেকে আমাকে ঠিক মত চিনেও না, আমিও অনেক কম চিনি। চুপচাপ তাকে ফলো করে সেনের বাড়ি যেটা এখন শবাই বলে সেনের বাগে ঢুঁকে গেলাম। কিছুদুর যাওয়ার পর ঐ ব্যাক্তি আমার সামনে থেকে একটু দূরে কোথায় গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমার পেন্সিল টর্চ দিয়ে খোঁজার চেষ্টা বৃথা কারন উনি কথাও নেই। ডাকলাম কিন্তু অনেক বাদুড়ের শব্দ ফিরে এল। টর্চটা জালিয়ে আর বন্ধ করলাম না। দিলাম দৌড়। এক দৌড়ে বাড়ি পার হয়ে এলাম এবং সামনে গ্রাম্য পোষ্টঅফিস। সেখান থেকে একটা বাঁশের পুল প্রায় দেড়শ গজের মত লম্বা হবে ওপাড়ের এক বন্ধুর বাড়ি আলামিন দের বাড়িতে সংযুক্ত। আমাকে বাড়ি পৌছতে হলে এ পুল বা সাকো পার হতেই হবে। আয়াতুল কুরসি পরছি আর আল্লাহ, আল্লাহ্ করছি। সাঁকোর মাঝ খানে এসে হঠাত আমার চোখ যায় ডান দিকে সেই খালি বাড়িটার দিকে। আমার জান বের হয়ে যাওয়ার মত অবস্তা। দেখলাম একটা অনেক বড় আম গাছের নিচে সেই সাদা বুড়িটা পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে নাচানাচি করছে আর আমাকে ডাকছে হাত দিয়ে ওখানে যেতে। তার হাসি দেখেত আমার হার্টবিট আর বেড়ে গেল। আমি এখন না পারি আলামিনদের বাড়ি যেতে না পারি সেনের ভাঙ্গা বাড়ি পথ দিয়ে স্যার এর বাসায় ফিরে যেতে। অগত্যা আল্লাহ নাম করে সাঁকো শক্ত করে ধরে পাড়ি দিচ্ছি খুব সাবধানে। তারাতারি যেতে পারছিনা কারন একেত ভয় তার উপর গ্রামের সাঁকোতে নতুন নতুন চরার অভিজ্ঞতা। যতই আলামিন্দের বাড়ির কাছে যাচ্ছি বুড়ির গলার শব্দ শুন্তে পাচ্ছি। কি? আমায় চিনতে পারছিস? আমি এসেছিলাম তোকে নিতে, তোর মা দেয় নি। আজ কে আটকাবে? বন্ধুরা, তার চেহারা দেখতে আমাদের বুড়ো নানি দাদিদের মতই দেখতে। কিন্তু লম্বায় প্রায় ২০ ফুট এর মত হবে। বুড়ির তামশা মনে হয় আর বেড়ে গেল। এখন চাঁদের আলোয় তাকে আর পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। বুড়ি নাচছে আর আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আমাকে বলছে তোকে আজ এই গাছের নিচে পুঁতে রাখব। আমি চার কুল পরে বুকে ফুঁ দিয়ে ওর দিকেও তাক করে ফুঁ দিলাম। এখন আমি আলামিন্দের বাড়ির নামায় এসে পরেছি। আমি দৌড় দিলাম না। তাকিয়েই ছিলাম ঐ বুড়ির দিকে। হঠাত সেই বুড়িটা নিরুদ্দেশ হয়ে গেল। আর দেখতে পেলাম না। আমি আর দেরি না করে বাড়ির দিকে রউনা হলাম। দিঘি পার হয়ে বট গাছ আসল। আমি আগে থেকেই করিমকে ডাকলাম নৌকা নিয়ে আমাকে নিয়ে যেতে বট গাছের কাছ থেকে। করিম ঘুমিয়ে পরেছিল। গ্রামের সবাই ঘুমে। মা করিমকে ডাকছে উঠোন থেকে আমি শুনতে পাচ্ছি বট গাছের ওখানে দারিয়ে থেকে। বট গাছের ডাল পালা ভেঙ্গে যাওয়ার মত অবস্থা। আমি মাকে জোরে বললাম আমার ভয় লাগে করিম কে তারতারি পাঠাও। মা বলল, “ভয় পাবিনা আমি দারিয়ে আছি এই পারে”।
করিম ঘুম থেকে উঠলো ঠিকই কিন্তু ওর ও ভয় লাগে। ও আগে নিশ্চিত হয়ে নিল আমার নাম ধরে ডেকে যে এটা আমি কিনা। মা চলে গেল তার ঘরে আর করিম আশ্ছে নৌকা নিয়ে কচুরিপানা সরিয়ে আছতে আছতে। গাছ থেকে ফিশ ফিশ শব্দ করে কে জেন বলল তোর মা তোকে অনেক কিছু শিখিয়েছে বেচে গেলি আজ।
বাড়ি আসলাম মাকে কিছু বললাম না। পরদিন স্কুলে গিয়ে দেখব কি সেটা। কিন্তু পরদিন স্কুলে যাওয়ার সময় আমি ভুলে গেলাম সম্পূর্ণ রূপে। জানিনা এত বড় ঘটনাটা কিভাবে একটা মানুষ ভুলতে পারে। স্যার জিজ্ঞেস করলেন কিরে বাড়ি ফিরতে সমস্যা হয়নিত? আমার মনে পরে গেল সেই ঘটনা। আমি বললাম না স্যার কোনও সমস্যা হয়নি। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে ফেরার সময় সেই গাছটির দিকে তাকালাম। কিছুই দেখলাম না। দেখার কথাও না। কারন আমার সাথে স্কুল বন্ধুরাও ছিল। আমাকে প্রাইভেট পড়ার ছলে এই যন্ত্রণা আর দুর্ভগ আর ৩ দিন সইতে হয়েছিল, তারপর এই বুড়িকে আর দেখিনি। দরুদ, কোরানের আয়াত আর নতুন আয়ত্ত করা সাহস আমাকে শিখিয়েছিল ঐ রকম পরিবেশে কিভাবে চলতে হয়। এখন আমি ইউকে তে থাকি। আমার বাসার পাশের কবরস্থান। এখানে ও আমি অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিশ দেখি সেটা নাহয় আরেকদিন বলব? ভালো থাকবেন। যে যে ধর্মই পালন করেননা কেন। সৃষ্টিকর্তা কে সব সময় মনে রাখবেন। উনি আপনাকে, আমাকে সবসময় রক্ষা করবেন।
শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০২২
যুবতী মেয়েটা
যুবতী
সূর্যটা প্রায় পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। সূর্যের অস্ত যাওযার এই দৃশ্যটা প্রতিদিন মুগ্ধ হয়ে দেখে লিন্ডা, আর দেখে সরাইখানার বাইরের উঠানে রাখা রানী তোমানের মূর্তিটাকে।
...
টেক্সাস শহরের অনেকটা বাইরে অবস্থিত ক্রিস আর লিন্ডার অনেক কষ্টে তৈরি করা সরাইখানা "লিন্ডা'স লজ"। লিন্ডার স্বামী ক্রিসের বয়স প্রায় ৭৫ এর কাছাকাছি আর লিন্ডার বয়স ৬৮। কোন ছেলেমেয়ে নেই ওদের। দীর
্ঘদিন ধরে এই সরাইখানা চালাচ্ছে ওরা স্বামী-স্ত্রী মিলে। সুখাদ্য আর অমায়িক ব্যাবহারের জন্য হাইওয়ের যাত্রীরা কিছুটা ঘুরে হলেও ওদের সরাইখানায় আসে, খেতে আর বিশ্রাম নিতে। বিয়ের পর থেকেই লিন্ডা বাইরের উঠানে রানী তোমানের মূর্তিটাকে দেখে আসছে। প্রায় ৭ ফুট উচু রানী তোমানের মূর্তি সগর্বে দাড়িয়ে আছে হাতে এক ভয়ঙ্কর দর্শন ছোরা নিয়ে। মাথায় ময়ুরের পালকের তৈরি মুকুট। কানে বেশ বড় ঝিনুকের তৈরি দুল। পায়ের কাছে জিভ বের করে দাড়িয়ে আছে ভয়ঙ্কর দর্শন এক জংলী কুকুর। যেন এক্ষুনি অদৃশ্য কোন শিকারের উপর ঝাপিয়ে পড়বে ওটা। বিয়ের পর প্রথম প্রথম মূর্তিটাকে দেখে বেশ ভয় পেত লিন্ডা কিন্তু এখন আর পায় না। ক্রিসের কাছে রানী তোমানের মূর্তিটার ইতিহাস শুনেছে লিন্ডা। ক্রিসের দাদার দাদা, রেমন্ড, অনেক আগে জঙ্গলে ঘেরা রেড ইন্ডিয়ানদের একটা গ্রামে গিয়েছিলেন শিকার করতে। সৌভাগ্যক্রমে রেড ইন্ডিয়ান সর্দারের একমাত্র মেয়েকে তিনি উদ্ধার করেন এক বন্য শুকরের কবল থেকে। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সর্দার রেমন্ডকে রানী তোমানের এই মূর্তিটা উপহার হিসেবে দেয়। রানী তোমান রেড ইন্ডিয়ানদের অনেক পুরোনো এক দেবী। ইন্ডিয়ানদের বিশ্বাস, যুগে যুগে তাদের উপর যত বিপদ এসেছে তার মোকাবেলা করে তাদেরকে নিরাপত্তা দেয় রানী তোমান। তোমান কে তাই তারা ডাকে নিরাপত্তার দেবী বলে। রেড ইন্ডিয়ান সর্দার রেমন্ডকে একটা কথা বলে দিয়েছিল, “কখনও অসম্মান করোনা দেবীর, দেখো বিপদে ঠিক তিনি তোমার পাশে এসে দাড়াবেন।”
সেই থেকে আজ পর্যন্ত রেমন্ডের বংশধররা দেবী তোমানের মূর্তিটা সযত্নে সংরক্ষন করে আসছে। লিন্ডা জানে ব্যাপারটা কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু কিছু বলেনি ক্রিসকে। থাকনা, যে যার বিশ্বাস নিয়ে।
রাত প্রায় ১২ টা। এখন আর কাস্টোমার আসবেনা বললেই চলে। লিন্ডা রান্নাঘরের সিন্কে এঁটো বাসন মাজছে। ক্রিস ক্যাশের হিসাব নিকাশ নিয়ে ব্যাস্ত। হঠাৎ দরজা খুলে তিনজন মুখোশ পড়া লোক হুড়মুড় করে ভিতরে এসে ঢুকলো। একজন দৌড় দিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে পড়লো তারপর লিন্ডার মুখ চেপে ধরে টানতে টানতে নিয়ে আসল। অন্য একজন ক্রিসের মাথা বরাবর একটা শটগান চেপে ধরল। তারপর ফিসফিস করে ক্রিসের কানে কানে বলল,"জলদি, ক্যাশে যা আছে চটপট বের করো, বেশী সময় নেই। না হলে বুড়িটার বুক ঝাঁঝরা করে ফেলবো"। ততক্ষনে লিন্ডাকে যে ধরেছিল তার হাতে বের হয়ে আসলো একটা ছোট পিস্তল। লিন্ডার মাথার উপর পিস্তলটা ধরে কুৎসিত দাঁত বের করে হাসতে লাগলো সে।
শটগানধারী তৃতীয়জনকে উদ্দেশ্য করে বলল, "পল, সামনে রাখা সিন্দুকটার তালা ভেঙ্গে ফেলো, তাড়াতাড়ি।"
ছটফট করে উঠলো ক্রিস। ঐ সিন্দুকে তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় রাখা আছে। শটগানধারীকে অনুরোধ করলো, বারবার মিনতি করলো কিন্তু কোন কাজ হলো না। বরং শটগানের বাটের এক বাড়ি খেয়ে ক্যাশের উপর ছিটকে পড়লো সে।
সিন্দুকটা খোলার অনেক চেষ্টা করলো পল, কিন্তু পারলো না। শটগানধারীর দিকে ফিরে বলল, "জ্যাক, কাজ হচ্ছেনা, বুড়োটার কাছে আনলক কোড জিজ্ঞেস করো।"
জ্যাক ক্রিসের কলার চেপে টেনে তুলল।
"কোড বল, বুড়ো, নাহলে বুড়ি খতম"
ক্রিস কিছু বলল না শুধু নিজেকে ছাড়ানোর প্রানপন চেষ্টা করতে লাগলো।
জ্যাক ক্রিসের গালে জোরে একটা চড় মারল। আবার ছিটকে পড়ল ক্রিস। তারপর লিন্ডাকে যে ধরেছিল, তার উদ্দেশ্যে বলল, "কেভিন, বুড়িটার মাথায় ২ রাউন্ড গুলি ঢুকিয়ে দে।"
"নাহ", চিৎকার করে উঠল ক্রিস, "আমি বলছি। সিন্দুকের কোড হলো ২৩৯৭...."
শেষ করতে পারলো না ক্রিস, তার আগেই কোথা থেকে যেন এক বিশাল জংলী কুকুর এসে ঝাঁপিয়ে পড়লো পলের গায়ের উপর। চিৎকার করারও সময় পেলনা পল, তার আগেই তার টুঁটি চেপে ধরল কুকুরটা। একটানে ছিড়ে ফেলল পলের কন্ঠনালী। মেঝেতে পড়ে কয়েক সেকেন্ড ছটফট করলো পল। তারপর একেবারে নিথর হয়ে পড়ে থাকলো।
চোখের সামনে এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠল জ্যাক। শটগানটা ক্রিসের মাথার উপর ধরলো আবার, কিন্তু গুলি করতে পারলো না। তার আগেই ক্যাশ টেবিলের উপর মুখ থুবড়ে পড়লো সে। ক্রিস অবাক হয়ে দেখলো, জ্যাকের গলা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। কেউ যেন অত্যন্ত নিপুন ভাবে, ধীরে সুস্থে জ্যাকের গলার একপাশ থেকে অন্যপাশে ধারালো একটা ছুরির ফলা বুলিয়ে দিয়েছে।
এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠলো লিন্ডা। দ্রুত ঘুরে দাড়ালো ক্রিস কিন্তু পিছনে কেউ নেই। তাহলে? কে হত্যা করলো শটগানধারীকে?
ততক্ষনে লিন্ডাকে ছেড়ে দিয়েছে কেভিন।
"কে?" চিৎকার করে উঠলো সে। ঘরের চারদিকে কয়েক রাউন্ড গুলি করলো। বোঝাই যাচ্ছে ভয় পেয়েছে। ঘনঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে, দরদর করে ঘামছে। পিস্তল ধরা হাতটা খুব জোরে কাঁপছে তার। আস্তে আস্তে পিছু হটতে লাগলো কেভিন। উদ্দেশ্য পরিস্কার, কোনভাবে দরজা পর্যন্ত যেতে পারলেই কোন একদিকে ছুট লাগাবে। হঠাৎ কেভিনের পিছে এসে দাড়ালো এক রেড ইন্ডিয়ান যুবতী। অবাক হয়ে তার দিকে তাকালো ক্রিস। খুব চেনা মনে হলো যুবতীর মুখখানা। কিন্তু কোনভাবেই মনে করতে পারলোনা মেয়েটা কে? হঠাৎ একটা ভয়ঙ্কর দর্শন ছুরি উঠে আসলো যুবতীর হাতে। বামহাত দিয়ে পেঁচিয়ে ধরলো কেভিনকে। মরন ভয়ে চিৎকার করে উঠলো কেভিন। ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগলো। কিন্তু যুবতীর হাত যেন শক্ত পাথরে গড়া। একটুও নড়লনা তার হাত। ডানহাতে ধরা ছোরাটা কেভিনের গলার বামদিকে চেপে ধরল। তারপর খুব ধীরে বামদিক থেকে ডানদিকে ঘুরিয়ে আনলো ছোরাটা। ফিনকি দিয়ে টকটকে লাল রক্ত বের হয়ে আসলো কেভিনের গলা দিয়ে। চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল কেভিনের। আস্তে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো কেভিন। রক্তে ভেসে যেতে থাকলো সরাইখানার মেঝে।
বীভৎস এ দৃশ্য দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল লিন্ডা। ক্রিস যেন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। মেয়েটা ক্রিসের দিকে চেয়ে সামান্য মাথা ঝোকালো। তারপর একে একে তিনটা লাশ নিয়ে টানতে টানতে দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল। যাওয়ার সময় হালকা একটা শিস দিল। লাফ দিয়ে কুকুরটা উঠে দাড়ালো তারপর পিছু নিল রহস্যময়ী রেড ইন্ডিয়ান যুবতীর।
নিজেকে সামলে নিতে কিছুটা সময় নিল ক্রিস। তারপর ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরল লিন্ডাকে।
"কে, কে ওটা," ভীত গলায় প্রশ্ন করলো লিন্ডা।
"আমি জানি না। তবে......." অনিশ্চিত গলায় বলল ক্রিস।
"তবে কি, বলো?"
"না কিছু না," একইভাবে অনিশ্চিত গলায় বলল ক্রিস।
সেরাতে আর ঘুম হলোনা ক্রিস আর লিন্ডার। সরাইখানার চারদিকে রক্তে মাখামাখি। পরিস্কার করতে করতে ভোর হয়ে গেল। পূর্ব আকাশে তখন কেবল হালকা লালচে আভা ফুটে উঠেছে। এক কাপ কফি হাতে ক্রিস সরাইখানার বাইরে বের হয়ে আসল। নরম ঠান্ডা একঝলক বাতাস বয়ে গেল ক্রিসের উপর দিয়ে। রানী তোমানের মূর্তি তার জায়গায় নীরবে দাড়িয়ে আছে। কিন্তু, কিন্তু কি যেন একটা অসামন্জস্যতা চোখে পড়ল ক্রিসের। মূর্তিটার দিকে এগিয়ে গেল সে। হ্যা, এবার বুঝতে পারলো ক্রিস। কুকুরটা রানীর বামদিকে ছিল আগে এখন কিভাবে যেন ডানদিকে চলে এসেছে। আর, আর রানীর ছুরিটা! ছুরিটার কিছু অংশ লালচে হয়ে আছে। রক্ত!!!
রাতে তাদেরকে সাহায্যকারী রেড ইন্ডিয়ান যুবতীর কথা মনে পড়ে গেল ক্রিসের। এখন বুঝতে পারলো, কেন এত চেনা চেনা লাগছিল মেয়েটাকে।
সংগৃহীত (ভূতের গল্প)
ভয় পাবিনা আমি দারিয়ে আছি এই পারে
আব্বা WAPDA তে চাকুরী করতেন। সেই জন্য ওনার পোস্টিং হতো কয়েক বছর পর পর দেশের বিভিন্ন শহরে। আমি তখন ক্লাস ২ তে পরি। এবার আব্বা বগুড়া তে পোস্টিং পেয়েছেন। নতুন স্কুল, নতুন জায়গা, নতুন বন্ধু সব কিছুই এলো মেলো। গোছাতে সময় লাগবে। স্কুলটা কিন্তু WAPDA এর ভেতর ছিলনা,আমাদের যেতে হতো প্রায় ১ KM হেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর স্কুল এ। স্কুল এর বন্ধুরা বলতো তোমাদের কলোনিতে ভূত
আছে। বিশ্বাস করতাম ছোটো ছিলাম বলে।
রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় তাই বড় ভাইকে ধরে ঘুমাতাম। সেদিন যে খাটে শুয়েছি পা বরাবর অনেক বড় জানালা। গরম বেশি থাকাতে জানালাটা খুলেই ঘুমিয়েছি দুভাই। আমার বড় ভাই সব সময় আমাকে ঘুমানোর আগে দোয়া পরিয়ে ঘুম পারাত, কিন্তু সেদিন আমি দোয়া না পরেই ঘুমিয়ে গেছি। মাঝ রাত্রে স্বপ্নে দেখলাম এক সাদা কাপড় পড়া বুড়ি পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে এসেছে আমাকে নিয়ে যেতে। তার হাসি দেখে পিলে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা সেই ঘুমের মধ্যেই। স্বপ্নের মধ্যেই দেখলাম মা আমাকে তুলে ছুঁড়ে দিল ঐ বুড়ির দিকে আর বুড়িটা আমাকে নিয়ে চলে যাওয়া মুহূর্তে মা আমাকে আবার ছিনিয়ে নিচ্ছে ঐ বুড়ির কাছ থেকে। মা আমাকে শক্ত করে ধরে আছে আর বুড়িটা মায়ের কাছে থেকে আবার আমাকে নিয়ে নেয়ার জন্য হাত বাড়াচ্ছে। আমাকে অবাক করে দিয়ে মা আমাকে আবার তার কাছে ছুঁড়ে দিল এবং বুড়িটি আমাকে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে আবার মা আমাকে ছিনিয়ে নিল তার কাছ থেকে। এভাবে চলল কিসুক্ষন এবং আমি জোরে চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠে গেলাম। বাসার সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠলো আমাকে নিয়ে, আমি জানালা থেকে দূরে সরে আসার অনেক চেষ্টা করতে লাগলাম, মা যখন আসলো তখন তাকে এমন জোরে ধরেছি যে আমাকে ছুটানর জন্য আব্বা আর ভাই দুই জন শক্তিশালী মানুশ এর প্রয়োজন হয়েছিল। আর আমি বারবার বলছিলাম আমাকে দিয়ে দিওনা ঐ বুড়ির কাছে। মা আমাকে আয়াতুল কুরসি পরে বুকে ফুঁক দিলেন এবং ঐ রাত্রের জন্য আমরা সবাই এক ঘরে ঘুমালাম। কারন জানলাম যে বড় ভাইও ভয় পেয়েছেন আমার চিৎকারে।
পরের দিন মসজিদের হুজুর কয়েক আয়াত পরে বুকে ফুঁ দিলেন আমার জন্য। এর পর থেকে প্রায় রাত্রেই গোঙাতাম আর ঘুম ভেঙ্গে যেত ভাই এর ডাকে। এত গেল স্বপ্নে দেখা সাদা বুড়ি। এই বুড়িকে আমি বাস্তবে দেখেছি ৬ বছর পর। আসছি শেই ঘটনায়। আল্লাহ্ বলেছেন, “অয়ামা খালাক্তুল জিন্নাহ অয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন”---“আমি জিন ও মানব জাতিকে আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি”।
মানুষের মদ্ধে যেমন ভালো খারাপ আছে তেমনি ওদের মদ্ধে ও ভালো খারাপ আছে। মানুষ এক প্রজাতি হয়ে যেমন অন্য প্রজাতির ক্ষতি করে তেমনি জিনরাও অন্য প্রজাতির (মানুষ সহ) ক্ষতি করে। তাই খারাপ জীন আছে এটা বিশ্বাস করলে দোষের কিছু হবেনা। আর ভুতের কথা বলছেন? এরাও জীন, কেও ভালো আবার কেউবা খারাপ। ভুত শব্দটা আমরা আমাদের কথিত বাংলা ভাষায় ব্যাবহার করে থাকি।
আমি তখন ক্লাস এইট এ পড়ি। গ্রামে নতুন বাড়ি কেনা হয়েছে মুনশিগঞ্জের শ্রীনগর থানার হাঁসারা গ্রামে। ভাই চলে গেছেন বিদেশে চাকরির খাতিরে তাই বাড়ির বড় ছেলে বলতে আমি। জিবনে কখনো গ্রামে থাকিনি নানির বাড়ি বেড়াতে যাওয়া ছাড়া, তার উপর ইলেক্ট্রিসিটি অথবা ভাল রাস্তাঘাট ছিলনা ঐ সময়। ভুতের ভয়ের চাইতে বিষাক্ত শাপের ভয় বেশি ছিল ঐ বয়সে। বাড়ির পাশেই একটা মাঝারি ধরনের বট গাছ, তার পর বড় বড় কতগুলো দিঘি, এগুলর বা দিকে আছে একটা অনেক বড় খালি বাড়ি। বাড়িটাতে অনেক বড় বড় আম গাছ আর করই গাছ। সামনে আসে একটা ভয়ঙ্কর রকমের ভাঙ্গা জমিদার বাড়ি নাম সেনের বাড়ি, অনেক বড় এলাকা জুড়ে ছিল এই বাড়িটি। হাজার রকমের বড় বড় গাছ দিয়ে ঘেরা। ভেতরে ঢুকলে সূর্যের আলো চোখে পরেনা। তার ২০০ গজ দুরেই আমাদের স্কুল। মুনশিগঞ্জের সবচেয়ে পুরনো স্কুল। বাজারে যাওয়ার সময় আমি এই দিক দিয়ে না যাওয়ার চেষ্টা করতাম আর যদি জেতাম তবে মানুষ থাকত। অন্য দিক দিয়ে বাজারে গেলে সোজা রাস্তা। বর্ষার সময় এই রাস্তাটা দুবে যেত তাই বাধ্য হয়েই আমাকে এই রাস্তা দিয়ে প্রাইভেট পরতে যেতে হত বিকাল বেলায় সেই ভাঙ্গা বাড়ির সামনে দিয়ে আর ফিরতে হত সন্ধ্যার সময় কখনো কখনো রাত ১০ টার পর।
এখন বর্ষাকাল তাই আমাকে বিকাল বেলায় কাজের ছেলে করিম নৌকায় করে স্যারদের এলাকায় দিয়ে গেল। জায়গাটার নাম পালের বাড়ি। করিম বয়সে আমার চাইতে বছর ২ এর ছোট হবে, দুজনেই নৌকা বাইতে খুব পছন্দ করতাম, তাই আমাকে হেটে যেতে হলনা। ও বাড়িতে চলে গেল আর আমি গেলাম স্যার এর বাসায় পরতে। পরালেখায় মোটামুটি ছিলাম তাই ক্লাস ৮ এর বৃত্তির জন্য খুব প্রস্তুতি চলছিল। পরতে পরতে রাত সাড়ে ১০ টা বেজে গেল। স্যার বলল যেতে পারবি বাড়িতে না দিয়ে আসতে হবে? প্রেস্টিজে লেগে গেল যদি ও ভয় পাচ্ছিলাম, বললাম স্যার কি যে বলেন না। কাল দেখা হবে স্কুলে বলে আমায় যেতে বললেন। আমার হাতে একটা কলমের সাইজ এর মত একটা টর্চ ভাই পাঠিয়েছে বিদেশ থেকে। কিন্তু এটার একটা সমস্যা হল ৫ থেকে ৬ সেকেন্ড পর বন্ধ করতে হয় কিচুক্ষনের জন্য। যেহেতু করিম আসবেনা এত রাতে তাই আমাকে হেটে যেতে হবে সেই ভাঙ্গা বাড়ি দিয়ে।
আয়াতুল কুরসি পরে বুক এ ফুঁ দিয়ে হাটা শুরু করলাম। মহাসড়ক দিয়ে ১৫ মিনিট হাটার পর ডানদিকে বাক নিতে যাওয়ার সময় আল্লাহকে ধন্যবাদ জানালাম কারন সামনে দেখি একলোক যাচ্ছেন আমার রাস্তা বরাবর। তার পিছু নিলাম। ৩ মিনিট পর সেই ভাঙ্গা সেনের বাড়ি। আমি এটাকে এড়িয়ে অন্য দিক দিয়ে গেলে আমাদের স্কুল দিয়ে যেতে পারি কিন্তু গেলাম না কারন আমার সাথে ঐ ব্যাক্তি আছেন। মজার ব্যাপার হল এতক্ষনের জন্য আমি একবার ও তাকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি উনি কেমন আছেন বা কোথা থেকে এলেন। আর তাছাড়া এলাকায় নতুন বলে অনেকে আমাকে ঠিক মত চিনেও না, আমিও অনেক কম চিনি। চুপচাপ তাকে ফলো করে সেনের বাড়ি যেটা এখন শবাই বলে সেনের বাগে ঢুঁকে গেলাম। কিছুদুর যাওয়ার পর ঐ ব্যাক্তি আমার সামনে থেকে একটু দূরে কোথায় গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমার পেন্সিল টর্চ দিয়ে খোঁজার চেষ্টা বৃথা কারন উনি কথাও নেই। ডাকলাম কিন্তু অনেক বাদুড়ের শব্দ ফিরে এল। টর্চটা জালিয়ে আর বন্ধ করলাম না। দিলাম দৌড়। এক দৌড়ে বাড়ি পার হয়ে এলাম এবং সামনে গ্রাম্য পোষ্টঅফিস। সেখান থেকে একটা বাঁশের পুল প্রায় দেড়শ গজের মত লম্বা হবে ওপাড়ের এক বন্ধুর বাড়ি আলামিন দের বাড়িতে সংযুক্ত। আমাকে বাড়ি পৌছতে হলে এ পুল বা সাকো পার হতেই হবে। আয়াতুল কুরসি পরছি আর আল্লাহ, আল্লাহ্ করছি। সাঁকোর মাঝ খানে এসে হঠাত আমার চোখ যায় ডান দিকে সেই খালি বাড়িটার দিকে। আমার জান বের হয়ে যাওয়ার মত অবস্তা। দেখলাম একটা অনেক বড় আম গাছের নিচে সেই সাদা বুড়িটা পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে নাচানাচি করছে আর আমাকে ডাকছে হাত দিয়ে ওখানে যেতে। তার হাসি দেখেত আমার হার্টবিট আর বেড়ে গেল। আমি এখন না পারি আলামিনদের বাড়ি যেতে না পারি সেনের ভাঙ্গা বাড়ি পথ দিয়ে স্যার এর বাসায় ফিরে যেতে। অগত্যা আল্লাহ নাম করে সাঁকো শক্ত করে ধরে পাড়ি দিচ্ছি খুব সাবধানে। তারাতারি যেতে পারছিনা কারন একেত ভয় তার উপর গ্রামের সাঁকোতে নতুন নতুন চরার অভিজ্ঞতা। যতই আলামিন্দের বাড়ির কাছে যাচ্ছি বুড়ির গলার শব্দ শুন্তে পাচ্ছি। কি? আমায় চিনতে পারছিস? আমি এসেছিলাম তোকে নিতে, তোর মা দেয় নি। আজ কে আটকাবে? বন্ধুরা, তার চেহারা দেখতে আমাদের বুড়ো নানি দাদিদের মতই দেখতে। কিন্তু লম্বায় প্রায় ২০ ফুট এর মত হবে। বুড়ির তামশা মনে হয় আর বেড়ে গেল। এখন চাঁদের আলোয় তাকে আর পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। বুড়ি নাচছে আর আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আমাকে বলছে তোকে আজ এই গাছের নিচে পুঁতে রাখব। আমি চার কুল পরে বুকে ফুঁ দিয়ে ওর দিকেও তাক করে ফুঁ দিলাম। এখন আমি আলামিন্দের বাড়ির নামায় এসে পরেছি। আমি দৌড় দিলাম না। তাকিয়েই ছিলাম ঐ বুড়ির দিকে। হঠাত সেই বুড়িটা নিরুদ্দেশ হয়ে গেল। আর দেখতে পেলাম না। আমি আর দেরি না করে বাড়ির দিকে রউনা হলাম। দিঘি পার হয়ে বট গাছ আসল। আমি আগে থেকেই করিমকে ডাকলাম নৌকা নিয়ে আমাকে নিয়ে যেতে বট গাছের কাছ থেকে। করিম ঘুমিয়ে পরেছিল। গ্রামের সবাই ঘুমে। মা করিমকে ডাকছে উঠোন থেকে আমি শুনতে পাচ্ছি বট গাছের ওখানে দারিয়ে থেকে। বট গাছের ডাল পালা ভেঙ্গে যাওয়ার মত অবস্থা। আমি মাকে জোরে বললাম আমার ভয় লাগে করিম কে তারতারি পাঠাও। মা বলল, “ভয় পাবিনা আমি দারিয়ে আছি এই পারে”।
করিম ঘুম থেকে উঠলো ঠিকই কিন্তু ওর ও ভয় লাগে। ও আগে নিশ্চিত হয়ে নিল আমার নাম ধরে ডেকে যে এটা আমি কিনা। মা চলে গেল তার ঘরে আর করিম আশ্ছে নৌকা নিয়ে কচুরিপানা সরিয়ে আছতে আছতে। গাছ থেকে ফিশ ফিশ শব্দ করে কে জেন বলল তোর মা তোকে অনেক কিছু শিখিয়েছে বেচে গেলি আজ।
বাড়ি আসলাম মাকে কিছু বললাম না। পরদিন স্কুলে গিয়ে দেখব কি সেটা। কিন্তু পরদিন স্কুলে যাওয়ার সময় আমি ভুলে গেলাম সম্পূর্ণ রূপে। জানিনা এত বড় ঘটনাটা কিভাবে একটা মানুষ ভুলতে পারে। স্যার জিজ্ঞেস করলেন কিরে বাড়ি ফিরতে সমস্যা হয়নিত? আমার মনে পরে গেল সেই ঘটনা। আমি বললাম না স্যার কোনও সমস্যা হয়নি। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে ফেরার সময় সেই গাছটির দিকে তাকালাম। কিছুই দেখলাম না। দেখার কথাও না। কারন আমার সাথে স্কুল বন্ধুরাও ছিল। আমাকে প্রাইভেট পড়ার ছলে এই যন্ত্রণা আর দুর্ভগ আর ৩ দিন সইতে হয়েছিল, তারপর এই বুড়িকে আর দেখিনি। দরুদ, কোরানের আয়াত আর নতুন আয়ত্ত করা সাহস আমাকে শিখিয়েছিল ঐ রকম পরিবেশে কিভাবে চলতে হয়। এখন আমি ইউকে তে থাকি। আমার বাসার পাশের কবরস্থান। এখানে ও আমি অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিশ দেখি সেটা নাহয় আরেকদিন বলব? ভালো থাকবেন। যে যে ধর্মই পালন করেননা কেন। সৃষ্টিকর্তা কে সব সময় মনে রাখবেন। উনি আপনাকে, আমাকে সবসময় রক্ষা করবেন।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
-
ঝির ঝির শব্দে একটানা বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। চারপাশ নিস্তব্দ- নিশুতি রাত মনে হলেও রাত মাত্র সাড়ে এগারোটা। কিন্তু এই মিরস্বরাই মেডিক্যাল এর লাশ ঘর...



